চিকিৎসকের পর্যালোচনা চলছে — এটি সাধারণ তথ্য, পরামর্শের বিকল্প নয়।
সংক্ষিপ্ত বিবরণ
অতিরিক্ত বড় স্তনের কারণে ঘাড়, পিঠ ও কাঁধে ব্যথা, ত্বকে র্যাশ এবং ব্যায়ামে অসুবিধা হতে পারে। ছোট বা অসমান স্তন, কিংবা গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর পর ঝুলে পড়া স্তন আত্মবিশ্বাসে প্রভাব ফেলতে পারে। রিডাকশন, অগমেন্টেশন ও মাস্টোপেক্সি সার্জারিতে শরীরের সঙ্গে মানানসই করে স্তনের আকৃতি দেওয়া হয়।
যে সমস্যায় প্রয়োজন
- ব্যথা বা র্যাশ সৃষ্টিকারী ভারী স্তন
- ছোট বা অসমান স্তন
- গর্ভাবস্থা বা ওজন কমার পর ঝুলে পড়া স্তন
কারা উপযুক্ত
- স্থিতিশীল ওজনের সুস্থ নারী
- যারা সন্তান নেওয়া শেষ করেছেন বা পরিকল্পনা নেই (লিফটের ক্ষেত্রে উত্তম)
চিকিৎসা পদ্ধতি
- ০১স্তন ছোট করা (রিডাকশন ম্যামোপ্লাস্টি)
- ০২ইমপ্লান্ট দিয়ে স্তন বড় করা
- ০৩ঝুলে যাওয়া স্তন ঠিক করা (মাস্টোপেক্সি)
- ০৪অসমতা সংশোধন
সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা
- রিডাকশনের পর শারীরিক কষ্ট লাঘব; আকৃতি ও অনুপাতের উন্নতি
- দাগ হালকা হলেও স্থায়ী
- বুকের দুধ খাওয়ানোর সক্ষমতা প্রভাবিত হতে পারে
প্রতিটি রোগী আলাদা। ফলাফল ভিন্ন হতে পারে, কোনো ফলাফলের নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না; আপনার জন্য কী বাস্তবসম্মত তা সার্জন আলোচনা করবেন।
পরামর্শ ও মূল্যায়ন
সেন্ট্রাল হাসপাতাল, ধানমন্ডিতে ডা. মাসুম আপনার বিস্তারিত ইতিহাস নেন, সমস্যার জায়গাটি পরীক্ষা করেন এবং আপনার অনুমতি থাকলে ফাইলের জন্য ছবি তোলেন। আপনার জন্য কোন পদ্ধতি উপযুক্ত — প্রয়োজনে অপারেশন ছাড়া চিকিৎসাও — সেরে ওঠার সময়, সম্ভাব্য ঝুঁকি ও খরচসহ তিনি ব্যাখ্যা করেন, যাতে আপনি চাপমুক্তভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
আগের প্রেসক্রিপশন, পরীক্ষার রিপোর্ট এবং যে ওষুধগুলো খাচ্ছেন তার তালিকা সঙ্গে আনুন।
সার্জারির প্রস্তুতি
- ১ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্রোগ বা কিডনির সমস্যা এবং কোনো অ্যালার্জি থাকলে সার্জনকে জানান।
- ২রক্ত পাতলা করার ওষুধ, অ্যাসপিরিন বা ভেষজ ওষুধ খেলে জানান — চিকিৎসকের পরামর্শেই কেবল এগুলো বন্ধ রাখতে হতে পারে।
- ৩অপারেশনের বেশ আগে থেকেই ধূমপান বন্ধ করুন; ধূমপান ক্ষত শুকাতে দেরি করায়।
- ৪অপারেশনের দিনের খাবার না খাওয়া ও ওষুধ সংক্রান্ত নির্দেশনা মেনে চলুন।
- ৫প্রথম কয়েক দিন সাহায্যের জন্য পরিবারের একজন সদস্যকে সঙ্গে রাখুন।
সার্জারি যেভাবে হয়
সম্পূর্ণ অজ্ঞান করে রিডাকশন ও লিফটে অতিরিক্ত টিস্যু ও চামড়া অপসারণ করে নিপলের অবস্থান ঠিক করা হয়; অগমেন্টেশনে স্তনের টিস্যু বা মাংসপেশির পেছনে ইমপ্লান্ট বসানো হয়।
সেরে ওঠা ও পরিচর্যা
কয়েক সপ্তাহ সাপোর্টিভ ব্রা পরতে হয়। বেশিরভাগ মানুষ এক থেকে দুই সপ্তাহে হালকা কাজে এবং প্রায় ছয় সপ্তাহ পর ব্যায়ামে ফিরতে পারেন।
সম্ভাব্য ঝুঁকি
- নিপলের অনুভূতিতে পরিবর্তন
- অসমতা
- ইমপ্লান্ট সংক্রান্ত সমস্যা — যেমন ক্যাপসুলার কন্ট্র্যাকচার বা ফেটে যাওয়া
- রক্তক্ষরণ বা চামড়ার নিচে রক্ত জমা (হেমাটোমা)
- সংক্রমণ
- ক্ষত শুকাতে দেরি হওয়া বা সেলাই খুলে যাওয়া
- প্রত্যাশার চেয়ে বেশি দৃশ্যমান দাগ
- অ্যানেসথেসিয়া সংক্রান্ত ঝুঁকি
এই চিকিৎসা নিয়ে প্রশ্ন
স্তনের আকারের কারণে স্থায়ী ব্যথা, ত্বকের সমস্যা বা দৈনন্দিন জীবনে বাধা হলে পরামর্শ নিয়ে বিকল্পগুলো জেনে নিতে পারেন।
সংশ্লিষ্ট ভিডিও
অ্যাপয়েন্টমেন্ট
সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কথা বলুন।
সেন্ট্রাল হাসপাতাল, ধানমন্ডিতে সিরিয়ালের জন্য হটলাইনে কল করুন — শনি থেকে বৃহস্পতিবার, বিকাল ৩টা – ৬টা।
