চিকিৎসকের পর্যালোচনা চলছে — এটি সাধারণ তথ্য, পরামর্শের বিকল্প নয়।
সংক্ষিপ্ত বিবরণ
হাত ছোট হলেও অত্যন্ত জটিল: টেন্ডন আঙুল নাড়ায়, স্নায়ু অনুভূতি দেয়, আর সূক্ষ্ম চামড়া মুঠো করতে সাহায্য করে। কাচ, ছুরি বা মেশিনে কেটে টেন্ডন ও স্নায়ু ছিঁড়ে যেতে পারে; কোনো শিশু জোড়া বা অতিরিক্ত আঙুল নিয়ে জন্মাতে পারে। সময়মতো মেরামত ও পরে হ্যান্ড থেরাপি কার্যক্ষমতা ফেরানোর সবচেয়ে ভালো সুযোগ দেয়।
যে সমস্যায় প্রয়োজন
- টেন্ডন কেটে যাওয়া — আঙুল ভাঁজ বা সোজা করতে না পারা
- স্নায়ুর আঘাত — কাটার পর অবশ ভাব
- জোড়া আঙুল ও অতিরিক্ত আঙুল
- হাতের পোড়াজনিত সংকোচন
কারা উপযুক্ত
- হাত বা কব্জিতে গভীর কাটা যেকোনো রোগী — দ্রুত মূল্যায়ন জরুরি
- জন্মগত হাতের ত্রুটিযুক্ত শিশু (অভিভাবকের সঙ্গে আলোচনা করে সময় নির্ধারণ)
চিকিৎসা পদ্ধতি
- ০১ফ্লেক্সর ও এক্সটেনসর টেন্ডন রিপেয়ার
- ০২স্নায়ু মেরামত
- ০৩স্কিন গ্রাফট দিয়ে জোড়া আঙুল আলাদা করা
- ০৪অতিরিক্ত আঙুল অপসারণ ও পুনর্গঠন
- ০৫কন্ট্র্যাকচার রিলিজ
সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা
- নড়াচড়া ও অনুভূতি ফিরলে দৈনন্দিন কাজ সহজ হয়
- স্নায়ু ধীরে সারে এবং পুরোপুরি নাও সারতে পারে
- ফলাফল অনেকটাই নির্ভর করে অপারেশনের পর হ্যান্ড থেরাপির ওপর
প্রতিটি রোগী আলাদা। ফলাফল ভিন্ন হতে পারে, কোনো ফলাফলের নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না; আপনার জন্য কী বাস্তবসম্মত তা সার্জন আলোচনা করবেন।
পরামর্শ ও মূল্যায়ন
সেন্ট্রাল হাসপাতাল, ধানমন্ডিতে ডা. মাসুম আপনার বিস্তারিত ইতিহাস নেন, সমস্যার জায়গাটি পরীক্ষা করেন এবং আপনার অনুমতি থাকলে ফাইলের জন্য ছবি তোলেন। আপনার জন্য কোন পদ্ধতি উপযুক্ত — প্রয়োজনে অপারেশন ছাড়া চিকিৎসাও — সেরে ওঠার সময়, সম্ভাব্য ঝুঁকি ও খরচসহ তিনি ব্যাখ্যা করেন, যাতে আপনি চাপমুক্তভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
আগের প্রেসক্রিপশন, পরীক্ষার রিপোর্ট এবং যে ওষুধগুলো খাচ্ছেন তার তালিকা সঙ্গে আনুন।
সার্জারির প্রস্তুতি
- ১ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্রোগ বা কিডনির সমস্যা এবং কোনো অ্যালার্জি থাকলে সার্জনকে জানান।
- ২রক্ত পাতলা করার ওষুধ, অ্যাসপিরিন বা ভেষজ ওষুধ খেলে জানান — চিকিৎসকের পরামর্শেই কেবল এগুলো বন্ধ রাখতে হতে পারে।
- ৩অপারেশনের বেশ আগে থেকেই ধূমপান বন্ধ করুন; ধূমপান ক্ষত শুকাতে দেরি করায়।
- ৪অপারেশনের দিনের খাবার না খাওয়া ও ওষুধ সংক্রান্ত নির্দেশনা মেনে চলুন।
- ৫প্রথম কয়েক দিন সাহায্যের জন্য পরিবারের একজন সদস্যকে সঙ্গে রাখুন।
সার্জারি যেভাবে হয়
অ্যানেসথেসিয়া দিয়ে ছিঁড়ে যাওয়া টেন্ডন ও স্নায়ু খুঁজে সূক্ষ্ম সেলাইয়ে মেরামত করা হয়, অনেক সময় ম্যাগনিফিকেশন ব্যবহার করে। জোড়া আঙুলে জিগজ্যাগ কাটার মাধ্যমে আঙুল আলাদা করে স্কিন গ্রাফট দেওয়া হয়।
সেরে ওঠা ও পরিচর্যা
কয়েক সপ্তাহ স্প্লিন্ট দিয়ে মেরামতের জায়গা সুরক্ষিত রাখা হয় এবং নির্দেশিত ব্যায়াম শুরু হয়। ভারী কাজে ফিরতে বেশি সময় লাগে; থেরাপির পরিকল্পনা মেনে চলুন।
সম্ভাব্য ঝুঁকি
- টেন্ডন আবার ছিঁড়ে যাওয়া বা জড়িয়ে গিয়ে শক্ত হওয়া
- অনুভূতি পুরোপুরি না ফেরা
- রক্তক্ষরণ বা চামড়ার নিচে রক্ত জমা (হেমাটোমা)
- সংক্রমণ
- ক্ষত শুকাতে দেরি হওয়া বা সেলাই খুলে যাওয়া
- প্রত্যাশার চেয়ে বেশি দৃশ্যমান দাগ
- অ্যানেসথেসিয়া সংক্রান্ত ঝুঁকি
এই চিকিৎসা নিয়ে প্রশ্ন
যত দ্রুত সম্ভব — সম্ভব হলে আঘাতের কয়েক দিনের মধ্যে। দেরিতেও মেরামত সম্ভব, তবে জটিল হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট ভিডিও
অ্যাপয়েন্টমেন্ট
সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কথা বলুন।
সেন্ট্রাল হাসপাতাল, ধানমন্ডিতে সিরিয়ালের জন্য হটলাইনে কল করুন — শনি থেকে বৃহস্পতিবার, বিকাল ৩টা – ৬টা।