কাইমেরিজম

কখনো হঠাৎ কোনো প্রয়োজনে ডিএনএ টেস্ট করানোর পর যদি জানতে পারেন আপনার শরীরে দুজন আলাদা মানুষের ডিএনএ রয়েছে — শুনতে গল্পের মতো লাগলেও এমন ঘটনা বাস্তবেই ঘটে। এই অবস্থার নাম কাইমেরিজম।
লিডিয়া ফেয়ারচাইল্ড
২০০২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তানের ভরণপোষণ সংক্রান্ত এক মামলায় লিডিয়া ফেয়ারচাইল্ডের ডিএনএ টেস্ট করা হয়। ফলাফলে দেখা যায়, তিনি যেন নিজের সন্তানদের মা নন — আদালত প্রায় সন্তানদের তাঁর কাছ থেকে নিয়ে যাওয়ার উপক্রম করে। পরবর্তী গর্ভাবস্থায় জন্মের সময় করা পরীক্ষাতেও মিল পাওয়া যায়নি; শেষে শরীরের বিভিন্ন টিস্যুর নমুনা পরীক্ষা করে দেখা যায়, একই মানুষের শরীরে দুটি আলাদা ডিএনএ প্রোফাইল রয়েছে।
ক্যারেন কিগান
একই বছর বোস্টনে কিডনি দাতা হিসেবে ক্যারেন কিগানের ছেলেদের পরীক্ষা করা হয়। তাদের ডিএনএ মায়ের সঙ্গে মিলছিল না। পরে বিস্তারিত পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া যায় — তিনিও একজন কাইমেরা।
কেন এমন হয়?
সবচেয়ে সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হলো, এই নারীরা শুরুতে ছিলেন অভিন্ন নয় এমন যমজ — দুটি আলাদা নিষিক্ত ডিম্বাণু — যা গর্ভের খুব প্রাথমিক পর্যায়ে মিশে একটি ভ্রূণে পরিণত হয়। প্রতিটি কোষধারা নিজের ডিএনএ ধরে রাখে, তাই শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ও টিস্যুতে আলাদা ডিএনএ থাকতে পারে: লালা বা রক্তের কোষে একটি, আর প্রজনন কোষে অন্যটি।


